সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় রেবেকা সুলতানা মনি নামে এক নারী হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক সিরাজাম মুনীরা এ রায় ঘোষণা করেন।
একই রায়ে আরো একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বেকসুর খালাস পেয়েছেন একজন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ মে বায়েজিদ বোস্তামী থানার মুরাদনগর এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার বাসা থেকে রেবেকা সুলতানা মনির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রথমে ভবনের দারোয়ান আবু ছিদ্দিক রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০ মে নেজাম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নেজাম জানান, মুরাদনগরের ঐ বাসায় পতিতার ব্যবসা করতেন আবদুল হালিম। সেখানে মাঝেমধ্যে যেতেন নেজাম। হালিমের কাছে প্রায় দুই লাখ টাকা পেতেন খুনের শিকার মনি। সেই টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন তিনি। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে মনিকে খুনের সিদ্ধান্ত নেন হালিম এবং নেজাম। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১১ মে মনিকে শ্বাসরোধে খুন করেন তারা। এরপর বাসায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম নেজাম উদ্দিন। তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আবদুল হালিম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ চর আইচা এলাকার বাসিন্দা। খালাস পাওয়া আসামির নাম আবু ছিদ্দিক রুবেল।
এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানার তৎকালীন এসআই রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরে ২০২২ সালের ১ আগস্ট তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। এ মামলায় ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ বলেন, রেবেকা সুলতানা মনি হত্যা মামলায় তিন আসামির মধ্যে একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অপর একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বেঞ্চ সহকারী আরো বলেন, রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেজাম উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আবদুল হালিম পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।